Connect with us

অনুপ্রেরণার কবিতা

বিরহের কবিতা – একাকিত্বে ডুবে থাকা ভালোবাসার আর্তি

Published

on

বিরহের-কবিতা-pic

 “চলে গেলে, তবুও থেকো”

তামান্না রহমান

 

তুমি চলে গেলে, ভেঙে দিলে সব,
অন্তরের ঘরে আজ শুধু নিঃশব্দ ধ্বনি।
একটি একটি করে স্মৃতির পাতা উল্টাই,
প্রতিটি পৃষ্ঠায়—তুমি, আর আমি।

তোমার চোখে একদিন ছিল স্বপ্ন,
আজ সেই চোখ অন্য কারো দিকে।
আমার হৃদয় পড়ে থাকে মৃদু বাতাসে,
যেখানে তুমি ফিরে আসো না আর।

চিঠির বাক্সে পড়ে আছে ভালোবাসা,
তুমি ছিঁড়ে ফেললেও শব্দগুলো রয়।
ভালোবাসা কি এতটাই নড়বড়ে ছিলো,
যে একটা আঘাতে সব ফুরিয়ে গেল?

চাঁদ আজও জ্বলছে আকাশে—
তবে সে আলো আর উষ্ণ নয়।
তোমার অনুপস্থিতি এক শূন্যতা,
যেখানে কেবল আমার অন্তর কাঁদে।

ভালোবাসি কখনো বলবো না আর,
কারণ ভালোবাসা কাঁদতে শেখায়।
তবুও, কোথাও যেন অপেক্ষা করি,
তুমি ফিরবে বলে—তোমার প্রতিক্ষায়।


বিরহের কবিতা: প্রেম হারানোর পরও ভালোবাসা থাকে বেঁচে


মূলভাব (Summary)

এই বিরহের কবিতা এক একাকিত্বের চিত্র। প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে হৃদয়ের ভেতরে বেজে ওঠা নিঃশব্দ সুর।

চিঠির বাক্সে পড়ে থাকা ভালোবাসা, চাঁদের শীতল আলো, আর প্রতীক্ষার যন্ত্রণায় ডুবে থাকা ভালোবাসার প্রতিটি স্তর এখানে প্রকাশ পেয়েছে।

এটা কেবল একটি কবিতা নয়—এটা এক আত্মার আর্ত

 

ভালোবাসা যেমন মিলনের আনন্দ, তেমনি বিরহের যন্ত্রনাও এক গভীর অনুভব।কারো চলে যাওয়া, স্মৃতির পাতায় রেখে যায় অবিনশ্বর ছাপ।

এই কবিতাটি এমনই এক হৃদয়স্পর্শী গল্প বলেছে—যেখানে প্রিয়জন চলে গেছে, কিন্তু তার ছায়া রয়ে গেছে অন্তরের প্রতিটি কোণে।


তুমি চলে গেলে, আর আমি রইলাম নিঃশব্দ অভিমানে

কবিতার শুরুতেই অনুভব করি এক প্রচণ্ড শূন্যতা। “তুমি চলে গেলে, ভেঙে দিলে সব”—এই পংক্তিতে লুকিয়ে আছে ভাঙনের ভয়াবহতা।

একজন প্রিয়জনের চলে যাওয়া শুধু শরীরী অনুপস্থিতি নয়, তা আত্মার রক্তক্ষরণ। সেই নিঃশব্দ ঘরে প্রতিটি দেয়াল যেন ফিরে ফিরে বলে—তুমি ছিলে।


স্মৃতির পাতায় তুমি এখনো আছো

“একটি একটি করে স্মৃতির পাতা ওল্টাই, প্রতিটি পৃষ্ঠায়—তুমি, আর আমি”—এই লাইন দুটো স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, ভালোবাসা হারালেও তার স্মৃতি কখনো হারায় না।

প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কিছু অনুভব, কিছু না বলা কথা। কবিতাটি সেই অনুভবগুলোকে রঙহীন করে তোলে না, বরং জীবন্ত করে তোলে প্রতিটি স্মৃতিকে।


ভালোবাসা কি সত্যিই এত ঠুনকো?

চিঠির বাক্সে পড়ে থাকা ভালোবাসা যেন অমর। যদিও প্রিয়জন ছিঁড়ে ফেলেছে সেই চিঠি, কিন্তু শব্দগুলো থেকে যায় হৃদয়ে।

কবি প্রশ্ন রাখেন—”ভালোবাসা কি এতটাই ঠুনকো ছিলো, যে একটা দিনেই সব ফুরায়?”

এই প্রশ্নটিই আসলে বিরহের কবিতার মূল ব্যথা—যেখানে প্রিয়জন ভুলে গেলেও ভালোবাসার মানুষটি ভুলতে পারে না।


চাঁদ আলো দেয়, কিন্তু সে আলো আর উষ্ণ নয়

“চাঁদ আজও জ্বলছে আকাশে—তবে সে আলো আর উষ্ণ নয়”—এই চিত্রকল্পে কবি দেখিয়েছেন, পৃথিবী যেমন আগের মতই চলে, তবে যার হৃদয়ে ভালোবাসা ভাঙে, তার কাছে পৃথিবীর সবকিছুই বদলে যায়।

চাঁদের আলো আর প্রেমিকের হৃদয় গরম করে না, কারণ প্রিয়জন এখন অন্য কারো দিকে তাকায়।


একতরফা প্রতীক্ষা আর ভালোবাসা

“ভালোবাসি বলেও বলবো না আর”—এখানে আত্মসম্মান এবং নিঃশব্দ প্রতিবাদ একসাথে মিশে আছে।

ভালোবাসা কাউকে কাঁদাতে শেখালে, সে ভালোবাসা আর বলা চলে না।

তবুও, কবি বলেন—”কোথাও যেন অপেক্ষা করি”—এ এক নিঃশব্দ আশা। হয়তো প্রিয়জন কোনো একদিন ফিরে আসবে—একটি ছোট্ট ভুলে।


উপসংহার

বিরহের কবিতা শুধু কিছু শব্দ নয়, এটি এক নীরব যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। ভালোবাসা যেমন হৃদয়কে আলোয় ভরিয়ে তোলে, তেমনি তার বিচ্ছেদ হৃদয়ের গভীরে আঁচড় কাটে।

এই কবিতায় সেই নিঃসঙ্গতা, সেই কষ্টের চিত্র ধরা পড়েছে—যেখানে কেউ আর ফিরে আসে না, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায় চিরকাল।

আমরা যারা ভালোবেসেছি, তারাই জানি বিরহ কতটা গভীর হতে পারে। এই কবিতা যেন তাদেরই কণ্ঠস্বর, যারা আজও স্মৃতির পাতায় একজনকে খুঁজে ফেরে।

তাই এ কবিতা শুধু পড়ার জন্য নয়, অনুভবের জন্য।

আপনার যদি এমন কোনো হৃদয়ভাঙা স্মৃতি থাকে, তবে এই কবিতা হয়তো আপনারই জীবনের প্রতিচ্ছবি।

ভালোবাসা থাকুক সুন্দরভাবে, আর বিরহ হোক কবিতার ভাষায় অমর।

অনুপ্রেরণার কবিতা

অস্তিত্বের সংকট কবিতা: আয়নায় প্রতিবিম্বহীন আত্মার গল্প”

Published

on

অস্তিত্বের-সংকট-কবিতা-pc

বিকল্প আয়না

তামান্না রহমান

 

(অস্তিত্বের সংকট কবিতা)

আমার আয়নারা আজকাল প্রতিফলন দেয় না—
বেআকৃতি মুখ,কিছু অদৃশ্য প্রশ্ন চিবোয় অন্ধ রোদ্দুর।
আমি কি সত্যিই বেঁচে আছি?
নাকি—এক ফর্মালিনে ডুব দেওয়া জ্যান্ত অভ্যাস?

বুকের ভিতর শব্দ নয়,শব্দতৃষ্ণা জন্মায়—
‘অস্তিত্ব’ নামক শব্দটা অর্ধেক শ্বাসে থমকে যায়।
আমার ঘুমে এখন আর স্বপ্ন নয়,
কেবল ‘সম্ভাব্য ব্যর্থতার স্কেচ’ আঁকে এক অপূর্ব দুঃস্বাদ।

সমাজ?
এক নিঃশব্দ কার্নিভাল— মুখোশেরও মুখোশ পরে মানুষ,
প্রেম?
যেন ডিলিট বাটনের পাশে রাখা এক ক্লিকযোগ্য মায়া।

তবু লিখে যাই:
ভুল বানানের আত্মজীবনী—
ছিন্নভিন্ন মনোবাসনা, আধকাটা চেতনার কোলাজ,
আর কফির কাপের নিচে জমে থাকা কিছু অব্যক্ত কবিতা।

শেষে, যখন সব আলো ফুরিয়ে যাবে—
তখনও হয়তো আমার অব্যক্তিরা রয়ে যাবে,
বিকল্প কোনো আয়নায়,
এক অনুপস্থিত মানুষের রূঢ় প্রতিচ্ছবিতে।


আয়নায় অদৃশ্য হওয়া মানুষ: এক আত্ম-অন্বেষণের কবিতা


ভূমিকা: আয়নার ভেতর হারিয়ে যাওয়া মানুষ

“আমার আয়নারা আজকাল প্রতিফলন দেয় না—”—এই একটি বাক্যেই উদ্ভাসিত হয় সত্তার এক গাঢ় দ্বন্দ্ব।দর্পণ শুধু মুখের ছবি ধরে না,এটি আমাদের আত্মার প্রতিফলনও বটে।কিন্তু যখন আয়নাও আর কোনো ছবি ফুটিয়ে তোলে না,তখন প্রশ্ন জাগে——আমরা কি আদৌ আছি,নাকি শুধু অভ্যাসের ফর্মালিনে ডোবা এক জীবন্ত মৃতদেহ?

এই কবিতা নিছক ব্যক্তিগত একাকীত্বের ভাষ্য নয়,এটি সেই আধুনিক সমাজের সেইসব মানুষের কণ্ঠস্বর যারা নিজেদের খুঁজে পায় না,যাদের অস্তিত্ব ক্রমশ ম্লান হয়ে আসে।কবিতাটি পাঠকের মনের গভীরে প্রশ্নবাণ ছুড়ে দেয়:”আমরা কি সত্যিই বেঁচে আছি,নাকি শুধু সময়ের স্রোতে ভেসে যাওয়া এক অবয়ব?”


কবিতার গাঠনিক বিশ্লেষণ

১. স্তবকভিত্তিক মূলবক্তব্য

-প্রথম স্তবক:“আমার আয়নারা আজকাল প্রতিফলন দেয় না” →অস্তিত্বের সংকট।

-দ্বিতীয় স্তবক:“বুকের ভিতর শব্দ নয়, শব্দতৃষ্ণা জন্মায়” →অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষার যন্ত্রণা।

-তৃতীয় স্তবক:“আমার ঘুমে এখন আর স্বপ্ন নয়”→ সৃজনশীলতার মৃত্যু।

– চতুর্থ স্তবক:“সমাজ? এক নিঃশব্দ কার্নিভাল” → মিথ্যা সামাজিক মুখোশ।

-পঞ্চম স্তবক: “তবু লিখে যাই: ভুল বানানের আত্মজীবনী” →অসম্পূর্ণ জীবনের স্বীকারোক্তি।

২. প্রতীক ও উপমার শক্তি

-“ফর্মালিনে ডুব দেওয়া জ্যান্ত অভ্যাস” → জীবনের যান্ত্রিকতা ও আবেগহীন অস্তিত্ব।

– “শব্দতৃষ্ণা” → কথা বলার আকাঙ্ক্ষা,কিন্তু ভাষাহীনতা।

– “সম্ভাব্য ব্যর্থতার স্কেচ” → ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক।

-“মুখোশেরও মুখোশ” → সমাজের বহুস্তরীয় ভণ্ডামি।

– “অব্যক্ত কবিতা” → যা বলা হয়নি, তার বেদনা।


সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা

১. সত্তার দ্বন্দ্ব ও সমকালীন নিঃসঙ্গতা

আধুনিক যুগে মানুষ শারীরিকভাবে সংযুক্ত হলেও মানসিকভাবে একা।ভার্চুয়াল জগতে প্রশংসা ও প্রতিক্রিয়ার ভীড়ে মন থাকে শূন্যতায় ভরা।কবিতার “আয়নায় প্রতিবিম্বের অনুপস্থিতি”এই নিঃসঙ্গতারই প্রতীক—আমরা নিজেদের দেখতে পাই না,কারণ আমরা হারিয়ে গেছি সংখ্যায়,সংজ্ঞায়,সমাজের প্রত্যাশায়।

২. আবরণে ঢাকা মানুষ

“মুখোশেরও মুখোশ পরে মানুষ”—”—এই পঙ্‌ক্তি সমকালীন সমাজের দ্বিচারিতার প্রতিচ্ছবি।আমরা কেউই নির্ভেজাল সত্যরূপে প্রকাশিত হই না;প্রত্যেকেই নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখে।হয়তো ভয়ে,হয়তো সমাজের চাপে।কিন্তু এই মুখোশই একদিন আমাদের নিজেদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৩.কল্পনার অবসান ও যন্ত্রনির্ভর জীবনধারা

“আমার ঘুমে এখন আর স্বপ্ন নেই”—”—এই পঙ্‌ক্তিতে কবি প্রকাশ করেছেন সেই বেদনা,যখন এক জন মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায়।দৈনন্দিন নিয়ম-কানুন,পেশাগত চাপ,আর সামাজিক বাধ্যবাধকতার জালে মানুষ পরিণত হয় এক নিঃস্পৃহ যন্ত্রে।কবিতাটি আমাদের জাগ্রত করে,প্রশ্ন করে:”আমরা কি শুধু বেঁচে থাকার জন্য বাঁচছি, নাকি জীবনের অর্থ খুঁজে চলেছি?”


সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট

-জীবনানন্দ দাশের “আমি যদি হতাম অন্ধ”: অস্তিত্বের অন্বেষণ।
– শামসুর রাহমানের “বন্দী শিবির থেকে”: আত্মার কারাবন্দিত্ব।
– মহাদেবী বর্মার”নীরবতা”: নারীর অবদমিত কণ্ঠস্বর।

এই কাব্যগুলির মতোই,বর্তমান কবিতাটি অন্তর্জগতের অনুসন্ধান এবং সামাজিক নিপীড়নের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।


সমাধানের পথ

১. আত্ম-স্বীকৃতি: নিজেকে খুঁজে পাওয়ার প্রথম ধাপ

“আয়নায় নিজেকে দেখতে না পাওয়া” মানে নিজের সত্তাকে অস্বীকার করা।প্রথমে নিজের ভুল,আবেগ, আকাঙ্ক্ষাকে মেনে নেওয়া প্রয়োজন।”আমি কে?”—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই হলো আত্ম-উদ্ঘাটনের প্রথম ধাপ।

২. মুখোশ খোলা: সত্যি কথা বলার সাহস

সমাজের ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে। মুখোশ পরে থাকলে একদিন নিজের চেহারাই ভুলে যাব আমরা।সত্যি কথা বলা,নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা—এগুলোই আমাদের আবার জীবন্ত করে তুলবে।

৩. সৃজনশীলতা ফিরে পাওয়া

“লিখে যাওয়া ভুল বানানের আত্মজীবনী”—এটাই কবির প্রতিবাদ।শিল্প, সাহিত্য,গান,বা যে কোনো সৃজনশীল কাজ আমাদের আত্মাকে জাগ্রত রাখে। নিজের মনের কথা লিখে ফেলা,আঁকা,গাওয়া—যেকোনোভাবে নিজেকে প্রকাশ করা প্রয়োজন।


কবিতার পিছনের গল্প

অস্তিত্বের সংকট এই কবিতার প্রতিটি শব্দে মিশে আছে একাকীত্বের গল্প। আমি  নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম সমাজের চাপে,রুটিনের যন্ত্রণায়।কিন্তু কবিতাটি লিখে আমি নিজেকে আবার খুঁজে পেয়েছি,এক প্রকার সস্তি পেয়েছি।এটি শুধু একটি কবিতা নয়—এটি এক আত্মমুক্তির গল্প।

পাঠকের চিন্তার খোরাক

১.”আপনার আয়না কি আপনাকে সত্যিই দেখায়?”
২.”আপনি কি মুখোশ পরে আছেন,নাকি সত্যি নিজেকে প্রকাশ করতে পারছেন?”

আপনার মতামত জানান:
এই কবিতা কি আপনার জীবনের কোনো না কোনো দিক স্পর্শ করেছে?আমাদের ফেসবুক পেইজ “নব যুগের কাব্য” ইনবক্স করুন অথবা কমেন্টে লিখুন।


শেষ কথা: আয়নায় ফিরে দেখা

“শেষে,যখন সব আলো ফুরিয়ে যাবে— তখনও হয়তো আমার অব্যক্তিরা রয়ে যাবে…”

এই অস্তিত্বের সংকট কবিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে,আমরা শুধু সময়ের স্রোতে ভেসে যাওয়া নই—আমাদের অব্যক্ত কথাগুলো,অনুভূতিগুলো,স্বপ্নগুলো একদিন কোনো না কোনো আয়নায় ফুটে উঠবে।হয়তো সেটা কোনো কবিতায়,হয়তো কোনো গানে,অথবা কারো হৃদয়ে।

“আয়না যদি আজ প্রতিফলন না-ও দেয়,তবু লিখে যাও—কারণ তোমার শব্দই একদিন তোমাকে খুঁজে পাবে।”


📌 ডিসক্লেইমার: এই বিশ্লেষণে ব্যবহৃত কবিতাংশ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত। কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সাথে মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয়।কপিরাইট আইন অনুযায়ী এই কন্টেন্টের কোনো অংশ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ।
Continue Reading

অনুপ্রেরণার কবিতা

“তবু আমি একা – নিঃসঙ্গ হৃদয়ের নীরব আর্তনাদ”

Published

on

তবু-আমি-একা-কবিতার-পিক

” তবুও একা”

মিজানুর রহমান

 

সবাই আছে চারিপাশে তবু আমি একা,
কেটে গেল অপেক্ষার প্রহর পেলাম না কারো দেখা।
ভেবেছিলাম আজ আসিবে কেহ দরজায় দিবে নাড়া,

দরজার পানে কান পেতে থাকি পাইনি কারো সাড়া।
আশার ঘোরে দিন কেটে গেল আসলো না তো কেউ,
নিমন্ত্রণের চিঠি দিয়ে ডাকলো না তো কেউ।
কোন পথে যে চলবো আমি সকল পথ ই বাঁকা,
পাইনা খুঁজে পথের দিশা তাই তো আমি একা।


তবুও একা – একাকীত্বের কবিতা

ভূমিকা: একাকীত্ব এক অদৃশ্য যন্ত্রণা

জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমরা নানা রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই।

কখনও ভালোবাসা পাই, আবার কখনও সেই ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে নিজেকে নিঃস্ব মনে হয়। ঠিক তখনই শুরু হয় একাকীত্বের যাত্রা।

“সবাই আছে চারিপাশে তবু আমি একা”—এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে অগণিত মানুষের জীবনের অস্পষ্ট এক সুর, যা হৃদয়ের গভীরে দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমে থাকে।

এই লেখায় আমরা বিশ্লেষণ করবো এমন এক কবিতা যা আমাদের চিরচেনা একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

সেইসাথে আমরা জানবো কেন এই একাকীত্বের কবিতা পাঠকের মনে এতটা সাড়া জাগায়।


মূলভাব: নিঃসঙ্গতার কাব্যিক ছায়া

এই কবিতাটি নিছক শব্দের ছন্দ নয়; এটি একাকীত্বের অশ্রুজল। প্রতিটি চরণ যেন মানুষের অন্তর্দহনের এক একটি পর্দা খুলে দেয়।

কবি বুঝিয়ে দিয়েছেন—ভিড়ের মাঝেও একজন মানুষ কতটা নিঃসঙ্গ হতে পারে।

বন্ধুরা থাকে, আত্মীয়েরা পাশে থাকেন, তবুও হৃদয়ের ফাঁকা জায়গাটা কেউ ভরাতে পারে না। এই অনুভবই কবিতার মূল স্পন্দন।

কবিতায় “দরজায় দিবে নাড়া”—এই লাইনটি বোঝায় কারো আসার অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে কেউ আসে না।

এটি শুধু কবির একার নয়, অসংখ্য পাঠকের জীবনের বাস্তবতা।

অনেকেই এমন অপেক্ষা করেন, যা কখনও পূর্ণ হয় না। কবি সেই অস্ফুট প্রতীক্ষার চিত্র এক সহজ অথচ হৃদয়গ্রাহী ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।


একাকীত্বের কবিতা কেন পাঠকের হৃদয় ছোঁয়

১. ব্যক্তিগত সংযোগ সৃষ্টি করে:
যারা একাকীত্বে ভোগেন, তারা এই ধরণের কবিতায় নিজেদের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। ফলে মানসিক প্রশান্তি ও সাহচর্যের অনুভব জন্ম নেয়।

২. চিরন্তন মানবিক অনুভূতি:
একাকীত্ব মানুষের জন্মগত আবেগের অংশ।

প্রেমহীনতা, বঞ্চনা বা সমাজের অবহেলায় এই অনুভব আরও গভীর হয়।

৩. কবিতার ভাষার সারল্য:
এই কবিতার সৌন্দর্য এর সরলতায়। কোনো জটিল শব্দ নেই, তবুও হৃদয় ছুঁয়ে যায়।


একাকীত্ব থেকে মুক্তির উপায়

এই ধরণের একাকীত্বের কবিতা পাঠের মাধ্যমে অনেকে মানসিক প্রশান্তি পান।

কারণ কবিতা যেন একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু, যার কাছে আপনি নিজের কষ্ট উজাড় করে দিতে পারেন।

তবে বাস্তবে, এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে দরকার—

  • আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার
  • সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ
  • নতুন বন্ধু তৈরি
  • পরিবার বা প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো

কবিতা হতে পারে সেই প্রেরণার উৎস, যা আপনাকে আবার হাসতে শেখায়, ভাবতে শেখায়—জীবন থেমে যায় না, কেউ না কেউ আপনার অপেক্ষায় আছেন।


উপসংহার: শব্দের গভীরে একা মানুষের আর্তনাদ

“তবুও একা” কেবল একটি কবিতা নয়—এটি একটি জীবনদর্শন, একটি অন্তর্জগতের প্রতিচ্ছবি।

যারা একাকীত্বে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি এক উষ্ণ আলিঙ্গনের মতো।

কবিতা আমাদের শেখায়—যদিও আমরা একা অনুভব করি, আসলে আমরা একা নই।

কেউ না কেউ, কোথাও না কোথাও, ঠিক এই অনুভবটাই বয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই ধরণের একাকীত্বের কবিতা আমাদের শেখায়, নিঃসঙ্গতার মধ্যেও সৃষ্টি সম্ভব, ভালোবাসা সম্ভব।

আর এই শব্দই হয়ে উঠতে পারে আপনার পরবর্তী অনুপ্রেরণা।

Continue Reading

অনুপ্রেরণার কবিতা

“নারীর আত্মপরিচয়: রূপের ছাঁচ নয়, আত্মার শক্তিই নারীর আসল পরিচয়”

Published

on

পুরুষের দৃষ্টিতে নারী

তামান্না রহমান

 

হ্যাঁ, আমি নারী।
তোমার নিখুঁত চোখে হয়তো অসম্পূর্ণ,
কারণ আমার গাল দাগহীন নয়,
গায়ে নেই দুধে-আলতা মাধুর্য।
আমার চুল কোমর ছোঁয় না,
চোখে নেই হরিণী টান—
তবু এ চোখে জমে আছে শত শতাব্দীর জীবনের জলছবি।

তুমি চেয়েছিলে শিক্ষার আভায় দীপ্তময় এক নারী,
নম্রতা, ভদ্রতা আর কোমলতার প্রতিমূর্তি।
আমি তা-ও নই, আমি সংযমের ছায়া নই,
আমি উত্তরের আগুন।
আমার কণ্ঠে জন্ম নেয় প্রতিবাদ,
ভদ্রতার মুখোশে ঢাকা আবেগের অভিনয় নয়।

তোমার চোখে আমি কলঙ্কিনী—
কারণ আমার শরীরে দাগ আছে,
মেদের আস্তরণে লুকিয়ে আছে অভিজ্ঞতার আলপনা।
তুমি বোঝো না,
এই দাগ—নতুন প্রাণ জন্মদানের চিহ্ন,
এই মেদ—অসীম সহ্যশক্তির ফল।

আমি তোমার কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্যের প্রতিমা নই,
আমি শরীর না, আত্মার আর্তি।
রূপকথার রাজকন্যা নই—
আমি রক্তমাংসের বাস্তবতা।

তুমি যাকে এড়িয়ে যাও,
সে-ই তোমার ঘর গড়ে তোলে,
তোমার ক্লান্ত দুপুরে জলের মতো শান্তি আনে।
আর তুমি শুধু খুঁজে ফিরো এক অলীক প্রতিমা—
যা কখনও বাস্তব হয় না,
শুধু থাকে কল্পনার খাঁচায় বন্দী।


 


নারীর আত্মপরিচয়: সমাজের চোখে নয়, নিজের মানদণ্ডে

নারীর সৌন্দর্য কি কেবল বাইরের রূপে মাপা যায়?

এই প্রশ্নটাই যেন ছুঁয়ে যায় কবিতাটির প্রতিটি চরণে।

একজন নারী তার নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন সমাজের প্রতিষ্ঠিত সৌন্দর্যের ধারণার বিপরীতে।

তাঁর গাল দাগহীন নয়, চুল কোমর ছোঁয় না, চোখে নেই হরিণী টান।

কিন্তু এই চাহনিতে লুকিয়ে আছে শত জীবনের গল্প, অভিজ্ঞতার জলছবি।

তিনি সেই নারী, যিনি বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিমা নন, বরং আত্মার গভীরতা নিয়ে বেঁচে থাকা এক সাহসী মানুষ।

সমাজের চোখে নারী কি কেবল নম্রতার প্রতিচ্ছবি?

সমাজ চায় এক শিক্ষিত, নম্র, ভদ্র ও কোমল নারী। কিন্তু এই কবিতার নারী বলেন, তিনি সংযমের ছায়া নন, তিনি উত্তরের আগুন।

তাঁর কণ্ঠে আছে প্রতিবাদের শক্তি, আছে আবেগের সাহসী প্রকাশ। তিনি ভদ্রতার মুখোশে ঢাকা আবেগ নন—তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতায় গড়া জীবন্ত আত্মা।

শরীরের দাগ নয়, এই তো জীবনধারণের গর্ব

এই কবিতায় নারীর শরীরের দাগ আর মেদকে দেখানো হয়েছে গর্বের প্রতীক হিসেবে।

সমাজ যেখানে এগুলোকে কলঙ্ক ভাবে, সেখানে কবিতার নারী জানিয়ে দেন—এই দাগ এক নতুন প্রাণের জন্মদানের স্মৃতি।

এই মেদ অসীম সহ্যের প্রতীক।

এগুলো লুকানোর কিছু নয়, বরং এগুলোই নারীর আসল পরিচয়ের অংশ।

নারী রূপকথা নয়, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

নারী কেবল রূপকথার রাজকন্যা নয়, বরং রক্তমাংসের এক জীবন্ত সত্তা।

তিনি কল্পনার খাঁচায় বন্দী কোনো নিখুঁত প্রতিমা নন।

সমাজ যাকে এড়িয়ে চলে, সেই নারীই ঘর গড়ে তোলে, ক্লান্ত দুপুরে শান্তির জলের মতো পাশে থাকে।

অথচ পুরুষ খুঁজে ফেরে এক অলীক সৌন্দর্য, যা বাস্তবে কখনও পাওয়া যায় না।

নারীর আত্মপরিচয়: নিজের চোখে নিজের গুরুত্ব

এই কবিতা নারীর আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। সমাজ যেভাবে নারীকে দেখতে চায়, তার বাইরে গিয়ে নারী নিজেকে নিজের চোখে মূল্যায়ন করেন।

তিনি নিজেই তাঁর পরিচয়ের নির্মাতা।

সৌন্দর্য, ভদ্রতা কিংবা রূপের মাপকাঠি দিয়ে নয়, বরং আত্মার শক্তি, অভিজ্ঞতা ও প্রতিবাদী মন দিয়ে তিনি নিজের পরিচয় খুঁজে নেন।


 

Continue Reading

Title

Trending